খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ১১:২ এএম
রাজধানীর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং তীব্র যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল ও ডিপো স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী টার্মিনালের বাস ডিপো শহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এবং এর দ্রুত কার্যকারিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, এই জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি যেন অতীতে চলা ‘নষ্ট সিস্টেমের’ বেড়াজালে আটকে ফাইলবন্দি হয়ে না পড়ে।
গত সোমবার (১৫ জুন) কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তাঁর নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাজধানীর এই ট্রাফিক ব্যবস্থা ও টার্মিনাল স্থানান্তর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজধানীর এই প্রধান প্রধান বাস টার্মিনাল এবং ডিপোগুলোর অবস্থানের কারণে সোজা ও সহজ সড়কগুলোও যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত জটিল ও যানজটপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন যে, সেই কিশোর বয়স থেকেই তিনি এই সমস্যার একজন প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। এই অসহ্য যানজটের যন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেক ভালো সিদ্ধান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে আলোর মুখ দেখেনি। তাই বর্তমান সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তটি যেন কোনোভাবেই ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে না থাকে, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের মূল দাবি।
আসিফ আকবর তাঁর পোস্টে মহাসড়ক ও গলিপথের যানচলাচলের বিশৃঙ্খলা রোধে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো রিকশার (যা পোস্টে প্রতীকী অর্থে টেসলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) অবাধ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন এখন গলি ছাড়িয়ে মূল হাইওয়ে বা মহাসড়কগুলোতেও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
এই যানবাহনগুলোর চালকদের সিংহভাগই অদক্ষ, যার ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছে। এসব চালকদের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং সড়কের প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চলার প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। এর পাশাপাশি কোনো ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক যদি এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে যান, তবে এই চালকেরা জোটবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও গন্ডগোল সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের কাছে সড়ক ও মহাসড়কে কঠোরভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান এই শিল্পী।
কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর কেবল প্রশাসনের ভূমিকার কথাই বলেননি, বরং সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়েও কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের সাধারণ মানুষকেও ট্রাফিক ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলার আওতায় নিয়ে আসতে হবে, কারণ অনেক সময় নাগরিকেরা নিজেরাই আইন অমান্য করার প্রবণতা দেখান।
তিনি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে বলেন, যারা ট্রাফিক আইন অমান্য বা অনিয়ম করবেন, তাদেরকে কঠোর অর্থদণ্ডের (জরিমানা) আওতায় আনা প্রয়োজন। আর্থিক জরিমানার বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলেই দেশের সামগ্রিক রোড ট্রাফিক সিস্টেমে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান যে, এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থার কিছু ইতিবাচক নমুনা ইতিমধ্যেই ঢাকার রাস্তায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সবশেষে, এই জনবান্ধব ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
সংবাদটিতে উল্লেখিত কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ফেসবুক পোস্টের মূল দাবি ও পর্যবেক্ষণসমূহ নিচে সারণীবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যালোচিত বিষয় | আসিফ আকবরের পর্যবেক্ষণ ও দাবি |
| টার্মিনাল স্থানান্তর সিদ্ধান্ত | সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; এটি যেন ফাইলবন্দি না হয়। |
| ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা | কিশোর বয়স থেকেই রাজধানীর বাস ডিপোজনিত যানজটের প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। |
| ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা | গলি থেকে হাইওয়েতে এদের অপ্রতিরোধ্য চলাচল; চালকেরা অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন। |
| দুর্ঘটনা ও সামাজিক পরিস্থিতি | অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে; প্রতিবাদ করলে চালকেরা জোটবদ্ধ হয়ে গন্ডগোল করে। |
| শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উপায় | আইন অমান্যকারীদের কঠোর আর্থিক জরিমানার (অর্থদণ্ড) আওতায় নিয়ে আসা। |
| নাগরিক দায়িত্ব | সাধারণ জনগণকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং ডিসিপ্লিনের আওতায় আসতে হবে। |
রাজধানীর পরিবহন খাতকে আধুনিকায়ন ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই তিন টার্মিনাল অপসারণের সিদ্ধান্তটি একটি বড় পদক্ষেপ। আসিফ আকবরের মতো সাধারণ নাগরিক এবং বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে ঢাকাবাসীকে দীর্ঘদিনের ট্রাফিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে।
মন্তব্য