খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৪ পিএম
ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে ক্যাম্পাসে মিছিল করে নিজেদের অবস্থান জানান দেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের গ্যালারি-২ এলাকায় একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। এ সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংগঠনের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী গ্যালারি সাজসজ্জার কাজ করছিলেন।
মামুন অভিযোগ করেন, সাজসজ্জার কাজ চলার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তার দাবি, তারা আব্দুল মালেকসহ সেখানে থাকা কয়েকজনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ছাত্রশিবিরের এই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, আহত আব্দুল মালেককে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল করেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ এবং ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত, হামলার অভিযোগ এবং আহতের সংখ্যা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ঢাকা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা যাতে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে।
মন্তব্য