ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধের ফলে অন্তত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ শুরু হয় এবং অবরোধকারী শ্রমিকরা জানান, তাদের বকেয়া বেতন না দেওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক খুলবে না।
অবরোধ ও অংশগ্রহণ
কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা গ্রুপের শতাধিক শ্রমিক অবরোধে অংশ নেন। তারা বকেয়া বেতন এবং ভাতার দাবিতে nationwide কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা দাবি করেন, কোম্পানির সঙ্গে বহুদিনের চুক্তি থাকলেও বেতন নির্দিষ্ট সময়মতো প্রদান করা হয়নি।
অবরোধের মূল তথ্যসমূহ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবরোধকৃত স্থান | কুমিল্লা, পদুয়ার বাজার, বিশ্বরোড |
| অংশগ্রহণকারী শ্রমিক | প্রায় ১০০+ |
| অবরোধ শুরু | সকাল ১০টা (৭ এপ্রিল) |
| অবরোধ স্থিতি | প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত (১১:৩৫ মিনিট) |
| যানজট দৈর্ঘ্য | প্রায় ১০ কিলোমিটার |
| কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি | হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, র্যাব, জেলা প্রশাসন |
যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি
অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শতশত যাত্রী ও গাড়ির চালক তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক গাড়ি দীর্ঘক্ষণ স্থির থাকায় যাত্রীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম জানান, “শ্রমিকরা দীর্ঘসময় ধরে মহাসড়ক অবরোধ করেছে। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, র্যাব এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমরা চেষ্টা করছি শ্রমিকদের বোঝিয়ে মহাসড়ক খালি করানোর।”
শাহিনুর আলম আরও বলেন, “আমরা চাই যাতে অবরোধ দ্রুত শেষ হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
প্রেক্ষাপট
নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের বেতন ও ভাতার জন্য একাধিকবার আন্দোলন করেছেন। বেতন বকেয়া ও ভাতার দাবির বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পর্যায়ে উঠেছে, তবে এখনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অবরোধ ছাড়া তারা অন্য কোনো উপায়ে তাদের দাবি আদায় করতে পারবেন না।
প্রতিবেদকের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা অবরোধ চলাকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ থাকার চেষ্টা করেছেন, তবে গরম, যানজট ও দীর্ঘ সময় স্থির থাকার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।



