ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার সকালে হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অংশ নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানা পুলিশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট একটি টিম। হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা দালালচক্র রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অপ্রয়োজনীয় সেবার দিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল থেকেই হাসপাতাল এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয় এবং হঠাৎ করেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধশতজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয় এবং আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে একদল লোক ভিড় জমায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রোগী হয়রানি, প্রতারণা এবং হাসপাতাল চত্বরে অবৈধভাবে দালালি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে পরে সেখানে একটি মোবাইল আদালত বসানো হয় এবং আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে কার কত মেয়াদে দণ্ড হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে দালালির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগেও একাধিকবার এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
নিম্নে অভিযানের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| অভিযানের সময় |
সোমবার সকাল |
| স্থান |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২ নম্বর ভবনসহ বিভিন্ন এলাকা |
| আটক ব্যক্তির সংখ্যা |
প্রায় অর্ধশত |
| অভিযানে অংশগ্রহণকারী সংস্থা |
শাহবাগ থানা পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট দল |
| পরবর্তী ব্যবস্থা |
মোবাইল আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান |
| বিস্তারিত শাস্তির তথ্য |
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি |
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে। তবে দালালচক্র সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।
মন্তব্য