মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইমামের থাকার কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কক্ষটির টিনের চালা ও বেড়ার একাংশ উড়ে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মালেক আকনের বাড়ির আল আকসা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। বিস্ফোরণের কারণ এবং কক্ষের ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আকাশ দুই দিন আগে ছুটিতে নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে মসজিদসংলগ্ন তাঁর থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। ওই কক্ষের চাবি মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে থাকত বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন আসরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতর থেকে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত মসজিদে ছুটে আসেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা কক্ষটির টিনের চালার একটি অংশ উড়ে যেতে এবং বেড়ার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে পান। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রীও আগুনে পুড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ফোরকটি কীভাবে ওই কক্ষে রাখা হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দার ধারণা, কক্ষটি তালাবদ্ধ হওয়ার আগেই সেখানে কোনো ধরনের বিস্ফোরক রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা সেটি রেখেছে বা কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আকন বংশের লোকজন মসজিদের ভেতরে বোমা রেখে থাকতে পারেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাকিম আকন। তিনি বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের ফাঁসাতে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে বিস্ফোরক রেখেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। ঘটনাটি নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত এবং বিস্ফোরণের ধরন পর্যালোচনা করে প্রকৃত কারণ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য কিংবা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তালাবদ্ধ একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্তের ফল পাওয়া না পর্যন্ত বিস্ফোরকটি কীভাবে সেখানে গেল এবং ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।



