তিন ধাপে ১৬ হাজার গ্রাহকের ৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা বৈধ বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর অংশ হিসেবে তৃতীয় ধাপে ৭ হাজার ৬৪১ জন পলিসিহোল্ডারের ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। এ নিয়ে তিন ধাপে মোট ১৬ হাজার ৫৮ জন পলিসিহোল্ডার পেয়েছেন ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

আইডিআরএ জানিয়েছে, গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি বীমা খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সর্বশেষ তৃতীয় ধাপের দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে পলিসিহোল্ডারদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়।

তৃতীয় ধাপে দেওয়া ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও নিরাপত্তা বন্ড নগদায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বৈধ দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে গ্রাহকের আর্থিক দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি বীমা কোম্পানির প্রতি আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২ হাজার ৫৪৯ জন জীবনবীমা পলিসিহোল্ডারকে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিহোল্ডার পান ২৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। এরপর তৃতীয় ধাপে আরও ৭ হাজার ৬৪১ জনের মধ্যে ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিন ধাপ মিলিয়ে ১৬ হাজার ৫৮ জন গ্রাহকের কাছে পৌঁছেছে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

তিন ধাপের হিসাব থেকে দেখা যায়, প্রতিটি পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পলিসিহোল্ডারকে বকেয়া অর্থ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে গ্রাহকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পরবর্তী দুই ধাপে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় ধাপে পরিশোধ করা অর্থের পরিমাণও আগের দুই ধাপের চেয়ে বেশি।

বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়া দাবি নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বীমা দাবি অপরিশোধিত রয়েছে। এসব দাবির সবগুলো একই ধরনের নয়। কোন দাবি বৈধ, কোনটি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনগুলো আইনি বা অন্যান্য জটিলতার কারণে আটকে আছে—তা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বীমা গ্রাহকের সঙ্গে কোম্পানির সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো দাবি পরিশোধ। মানুষ নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যতের ঝুঁকির সময় আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসন্তোষ দ্রুত পুরো খাতের প্রতি অনাস্থায় পরিণত হতে পারে। ফলে বকেয়া দাবি নিষ্পত্তি শুধু গ্রাহকের পাওনা মেটানোর বিষয় নয়; এটি বীমা ব্যবসার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

তবে পুরোনো দাবি পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে যাতে বড় অঙ্কের দাবি জমে না থাকে, সে বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন। দাবি যাচাই, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া যত দ্রুত ও স্বচ্ছ করা যাবে, গ্রাহকের ভোগান্তি তত কমবে। একই সঙ্গে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দাবি পরিশোধের সামর্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, যেসব বৈধ দাবি এখনো বকেয়া রয়েছে, সেগুলোর যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির সম্পদ ও অন্যান্য আর্থিক উৎস কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিন ধাপে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরিশোধ নিঃসন্দেহে বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার দাবি এখনো অপরিশোধিত থাকার তথ্য সামনে থাকায় কাজের পরিধি যে অনেক বড়, সেটিও স্পষ্ট। গ্রাহকদের বৈধ পাওনা দ্রুত মেটানোর পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং দাবি নিষ্পত্তির সক্ষমতা বাড়ানোই এখন খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।