ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শুরু হয়েছে তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই প্রতিযোগিতায় এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে খেলার ধরনে। ওয়ানডের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ম্যাচগুলো। লাল বলের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে সাদা বল।
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করা হয়। বাছাইপর্বের এই আয়োজনকে এবার তুলনামূলকভাবে বর্ণাঢ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূলত প্রতিযোগিতায় আনা নতুনত্ব এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনটির বিশেষ দিক।
এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের বয়সের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করেছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের বয়স হতে হবে ২৫ বছরের মধ্যে। এই বয়সসীমার মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতার আওতায় এনে তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিচের স্তর থেকেই সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বিসিবির প্রতিভা খোঁজার কার্যক্রম। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দলের নির্বাচকদের মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। বাছাইপর্বে ভালো করা ক্রিকেটারদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাবনাময়দের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে যোগ্য ক্রিকেটারদের বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৭০টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ ক্রিকেটার এতে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। এত বিপুলসংখ্যক দল ও খেলোয়াড়কে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মোট ১৫১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন মাঠে ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রথম পর্বে ৭০টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ১৬টি গ্রুপে। গ্রুপের ম্যাচগুলো হবে লিগ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ দলগুলো গ্রুপ পর্বে একাধিক ম্যাচ খেলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল জায়গা করে নেবে সেরা ৩২-এর পর্বে।
সেরা ৩২ থেকে শুরু হবে নকআউট পর্ব। এই ধাপে ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ম্যাচের জয়ী দল পরের রাউন্ডে উঠে যাবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে আটটি দল। কোয়ার্টার ফাইনালেও থাকবে নকআউট পদ্ধতি—হারলেই বিদায়।
কোয়ার্টার ফাইনালের চার বিজয়ী দল খেলবে সেমিফাইনালে। দুই সেমিফাইনালের জয়ী দল উঠবে ফাইনালে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে তুলনামূলকভাবে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলেও প্রতিযোগিতার শেষ দিকে প্রতিটি ম্যাচই হবে সরাসরি বাদ পড়ার লড়াই।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পরিবর্তনের ফলে ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর ক্ষেত্রেও ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সীমিত ওভারের এই সংস্করণে দ্রুত রান করা, নির্দিষ্ট সময়ে উইকেট নেওয়া এবং চাপের মধ্যে কার্যকর পারফরম্যান্স করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে নির্বাচকদের নজরে আসতে ক্রিকেটারদের প্রতিটি ম্যাচেই কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ থাকছে।
ঢাকা ক্রিকেট কমিটি অব মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) জানিয়েছে, ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পুরো বাছাই টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বড় পরিসরের এই আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, অন্যদিকে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচকেরা। এ কারণে এবারের বাছাই টুর্নামেন্টটি ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন খেলোয়াড় খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।


