জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পথে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে দুই দিন ধরে আটকে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও একজন কোচ। আকস্মিক বন্যার কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের ফেরার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আটকে পড়া খেলোয়াড়রা হলেন রামহিমলিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি ও সামান্তা হোসেন তুসি। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দলের কোচ ও বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় অবশ্য দেশে ফিরতে পেরেছেন। তাঁদের টিকিট ছিল ভিন্ন ফ্লাইটে। ফলে বন্যার কারণে তৈরি হওয়া এই ভ্রমণ জটিলতা তাঁদের দেশে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীদের একটি বড় অংশ বন্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের নির্ধারিত ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষকেও একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দুই দিন ধরে সেখানে অবস্থান করলেও তাঁদের দেশে ফেরার জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নিশ্চিত হয়নি। ফলে কবে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আটকে পড়া খেলোয়াড় ও কোচকে দ্রুত দেশে ফেরাতে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের জন্য অন্য কোনো ফ্লাইটে আসন পাওয়া যায় কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে থাইল্যান্ডের বন্যা পরিস্থিতি ও বিমান চলাচলের ওপর তাঁদের ফেরার সময়সূচি নির্ভর করছে।
জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার পর দেশে ফেরার সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন দলের সদস্যরা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শেষ করে স্বাভাবিক সূচিতে দেশে ফেরার কথা থাকলেও থাইল্যান্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাঁদের যাত্রা দীর্ঘ হয়েছে।
এদিকে দলের কয়েকজন সদস্য ইতোমধ্যে দেশে ফিরতে পারলেও পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচের ফেরার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। বিওএ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের দেশে ফেরানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ঠিক কবে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


