কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের এক ভারতীয় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আদনান আলতাফ।
নিহত আদনানের বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার। তাদের স্থায়ী বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া দাঙ্গালপাড়ায়। আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধ্যয়ন করছিলেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্যের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের দিকে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে বাইরের একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে খাবার শেষ করার পর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। এর পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো খবর না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ সন্ধানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি বুড়িচং থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান কিছুদিন ধরে কিছুটা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এই কারণে তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মাকে ক্যাম্পাসে তার সাথে থেকেই খেয়াল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সব ধরনের সতর্কতার মধ্যেই সোমবার রাতে তিনি ক্যাম্পাস থেকে বের হন এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, জিডি হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে আদনানের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কের পাশের একটি জলাশয়ে এক তরুণের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং সনাক্ত করে যে এটি নিখোঁজ ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনানেরই মরদেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ভারতীয় কন্টিনজেন্টের সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।


