মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকার ‘ফেমাস হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আত্মসাৎ, প্রতারণা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজি বাশার সরকার।
রোববার (৩ মে) মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের শফিউদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
হাজি বাশার সরকার জানান, মানিকপুর প্লাজায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য মো. মনির হোসেন ওরফে রড মনিরকে অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে মনির হোসেন ও তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রিফাতের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ‘সিক্স ম্যাক্স’ নামের একটি মেশিনসহ বিভিন্ন ল্যাব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব সরঞ্জাম পঞ্চসার এলাকার একটি ক্লিনিকে রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তারা যন্ত্রপাতি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে তারা সেই আশ্বাস অস্বীকার করেন। এরপর গত ৩ মার্চ তাদের বাসায় গেলে উল্টো তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মামলা করলে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
হাজি বাশার সরকার বলেন, এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তার অভিযোগপত্রে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা একই নামে অন্যত্র ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করছেন, যার ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আত্মসাৎকৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী বড় ভাই বাচ্চু সরকার এবং ছোট ভাই জয়নাল সরকার।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মনির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিচে অভিযোগের ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ |
ঘটনা |
| অংশীদারিত্বের সময় |
মো. মনির হোসেনকে পরিচালনায় যুক্ত করা হয় |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি |
‘সিক্স ম্যাক্স’সহ যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ |
| ৩ মার্চ |
যোগাযোগের পর হুমকি ও ভয় প্রদর্শনের অভিযোগ |
| পরবর্তী সময় |
থানায় অভিযোগ গ্রহণ না হওয়া ও আদালতে মামলা |
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।