খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ৯ বছর বয়সি এক শিশুকন্যার লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে পুলিশ ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শিশুর নাম মাহমুদা আক্তার। সে তারাকান্দি গ্রামের কৃষক ইদ্রিস মোল্লার ছোট মেয়ে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট মাহমুদাকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জোরালো দাবি করছে তার পরিবার।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদা হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়। প্রতিবেশি ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশে পারিবারিক কবরস্থানের কাছে একটি নির্জন জায়গায় এক শিশুর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মাহমুদার বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থলে লাশের সুরতহাল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের ভাবি শাহনাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এমনকি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার ব্যবহৃত পরনের পোশাক পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, অবোধ এই শিশুটিকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নগরকান্দা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনার পর প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক করেছে। তবে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের অবস্থান এখনো সতর্কতামূলক।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল ফাহাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি দেখে ঘটনাটিকে স্পষ্টতই হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শোনা যাচ্ছে অন্য কোনো শিশুর সাথে খেলতে গিয়ে মাথায় বা শরীরে আঘাত লেগে তার মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে লুকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে পরিবারের করা ধর্ষণের অভিযোগকে পুলিশ কোনোভাবেই খাটো করে দেখছে না। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধর্ষণের কোনো আলামত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
মন্তব্য