খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে শিবপুর পৌরসভার আশ্রাফপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শাহাদত হোসেন শ্যামল মোল্লাকে (৪৫) তাঁর নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় এবং শিবপুর পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আশ্রাফপুর গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের সন্তান। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে নানা আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে আরেকটি জোরালো অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকে মো. শরীফ খান (৩৫) নামের আরেক তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দুলালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং মধ্যপাড়া গ্রামের বিশিষ্ট বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পর গত সোমবার সকালে উভয় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, জনজীবন নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে প্রতিরোধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের প্রচলিত আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এলাকার সাধারণ মানুষও এই পদক্ষেপে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।