ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবেশনার কথা বলে ডেকে এনে তিতাস নদীতে নৌকায় দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মুজাহিদ ওরফে রাকিবকে (২২) সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। এ নিয়ে রোমহর্ষক এই ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হলো।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটে এসআরবি-৯ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ মো. রিজাউল করিম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজাহিদ পৈশাচিক এই অপরাধের সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে ‘রাকিব’ নামে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে গত ৮ সেপ্টেম্বর সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের পরিবেশনার জন্য ৯ হাজার টাকায় একটি পেশাদার নৃত্যদলের সঙ্গে চুক্তি করেন মুজাহিদ। কাজের কথা বলে তিনি বিকাশে দুই হাজার টাকা অগ্রিমও পাঠান। চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নৃত্যশিল্পী সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান। সেখান থেকে মুজাহিদ ও তার সহযোগীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে তিতাস নদীর শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখান থেকে কৌশল বদলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে তাদের তিতাস নদীর মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আরও তিন যুবক অপেক্ষা করছিল। নির্জন নদীতে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে সঙ্গে থাকা পুরুষ সহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই নারী শিল্পীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালায় ওই পাঁচ যুবক। নির্যাতন শেষে রাত ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদা ও পানির মধ্যে ভুক্তভোগীদের ফেলে রেখে আসামিরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
নৃশংস এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে শান্তর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসআরবি-৯ এর আভিযানিক দল সিলেটে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৯ এর প্রধান শেখ মো. রিজাউল করিম এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মুজাহিদকে সরাইল থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে। ভয়ঙ্কর এই গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও এলিট ফোর্সের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


