খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
নাটোরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত আবদুল কুদ্দুসের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে গুরুদাসপুর পৌরসভার কাছারিপাড়া এলাকায় অবস্থিত তার পৈতৃক বাসভবনে এই হামলা চালানো হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, বেলা দুইটার দিকে ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর এসে প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থামে। মোটরসাইকেলে আসা একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে হঠাৎই বাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চালানো এই তাণ্ডবে বাসভবনের জানালার কাচ এবং মূল ফটকের পাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। হামলা শেষে তাণ্ডবকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। বর্তমানে বাড়ির সামনের আঙিনায় ভাঙা কাচের টুকরা ও ইটের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক পরিচয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত আবদুল কুদ্দুস ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একাধিকবার নাটোর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এই প্রবীণ রাজনীতিক দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। গত ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট তিনি মারা যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গুরুদাসপুরের এই বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরিবারের কেউ সেখানে নিয়মিত বসবাস না করলেও বাড়িটি তাদের স্মৃতি হিসেবেই রক্ষিত ছিল।
ঘটনার বিষয়ে আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এলাকার বিদ্যুৎ সংকট ও দুর্ভোগ নিয়ে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছিলেন। তার দাবি, সেই লেখালেখির জের ধরে রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুর্বৃত্তরা তাদের ফাঁকা বাড়িতে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার বাবা টানা ২৫ বছর ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকলেও কখনো কোনো বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীর বাড়িতে আঘাত হানেননি। যদি তারা প্রতিশোধের রাজনীতি করতেন, তবে অতীতে এলাকায় প্রতিপক্ষ টিকে থাকতে পারত না।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের দিন শনিবার গভীর রাতে একই উপজেলায় নাশকতার মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে সবুজ ফকিরের বাড়িতেও বড় ধরনের লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে তার বাড়িতে ঢুকে স্বজনদের জিম্মি করে প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পর পর দুটি ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ হাসান জানান, একটি মিছিল যাওয়ার সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাড়ির সামনে উসকানিমূলক পরিস্থিতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের খবর তারা পেয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মন্তব্য