খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা এলাকায় পাঁচ বছরের এক কন্যাশিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর রোববার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা (৩৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে নান্দাইল থানা পুলিশ। আটককৃত মোস্তফা নান্দাইল পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাশিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির মা পেশায় একজন গৃহকর্মী। ঘটনার সময় তিনি মেয়েকে ঘরে রেখে কিছু সময়ের জন্য পাশের একটি বাড়িতে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটিকে একা পেয়ে মোস্তফা চতুরতার আশ্রয় নেয়। সে বাড়ির পাশের বিলে নৌকায় চড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে শিশুটির মা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান, তার সন্তান গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে হেঁটে আসছে। এ সময় মায়ের আকুল জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মোস্তফার নির্মম নির্যাতনের কথা খুলে বলে।
প্রথমে সামাজিক লোকলজ্জা এবং লোকজানাজানির ভয়ে অসহায় পরিবারটি বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে শুরু করে। শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় পরিবারের সদস্যরা আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকরামুল্লাহ শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, শিশুটি অত্যন্ত নির্মম ও মারাত্মকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও রক্তক্ষরণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে নান্দাইল থানা পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে।
নান্দাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সম্রাজ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। রাতে নান্দাইল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোস্তফাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই জঘন্য অপরাধের পেছনে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে।