খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২৭ এএম
বরিশালের গৌরনদীতে এক নারীকে অনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করে যৌন হয়রানি এবং জোরপূর্বক তাঁর ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যুবদল কর্মী শাহীন মৃধা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটনের তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার একটি ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন অভিযুক্ত শাহীন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগী কেন্দ্রিক বিবরণে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় একটি বসতঘর থেকে এক নারী ও এক যুবককে আটক করেন শাহীন মৃধা ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সঙ্গী। জিম্মি অবস্থায় ওই নারীকে তারা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করেন এবং নারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। এর দীর্ঘ সময় পর হঠাৎ করেই ধারণকৃত ৫৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও ভাইরাল করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও সার্বিক পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
সংগঠনের নীতিগত অবস্থান: অভিযুক্ত শাহীন মৃধা যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন আকন। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে যুবদলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘটেছে এবং ভিডিও ধারণ করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ প্রশাসন ও আইনি কার্যক্রম: এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তাঁর স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ বা এ এজাহার পাওয়া মাত্রই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও আইনি পরিণতি: আইনজীবীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে কারও সংবেদনশীল ভিডিও প্রকাশ করা ভুক্তভোগীর জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু জানান, সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও তা ইন্টারনেটে ছড়ানো দেশের প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি অত্যন্ত গুরুতর ও জামিনঅযোগ্য অপরাধ।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহীন মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য