গাইবান্ধায় এক নারীর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাসান (৩৬) নামের এক যুবককে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩।
বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান আরবি-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর হাসান গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোখলেচুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করেন জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে সেই সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিও ক্লিপ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবার ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও জাহাঙ্গীর তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ভুক্তভোগী নারীর ছবির সঙ্গে তাঁর স্বামী সাইফুল আলমের (৫২) ছবি বিকৃতভাবে যুক্ত করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালান। গত ৩ জুলাই দুপুরে ওই নারীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। দাবিকৃত অর্থ না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ব্ল্যাকমেইলিং ও মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী সাইফুল আলম বাদী হয়ে গত ৯ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামি আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার তদন্ত ও আসামী শনাক্তে থানা-পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও র্যাবের গোয়েন্দা দল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা এলাকায় এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআরবি-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং এসআরবি-১-এর আভিযানিক দল সম্মিলিতভাবে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা জাহাঙ্গীর হাসানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের হয়রানি ও সাইবার অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদালতে সোপর্দ করার জন্য বুধবার গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


