আইসিসি উইমেন্স ইমার্জিং নেশনস ট্রফিকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। তাঁর নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করে বিসিবি। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে দলীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পাশাপাশি উদীয়মান ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবেও এই টুর্নামেন্টকে দেখছে বাংলাদেশ।
দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার বিষয়টি এবারের ঘোষণার অন্যতম আলোচিত দিক। এত দিন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে তিনি অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলা এই বাঁহাতি স্পিনারের জন্য এটি নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়।
নাহিদার ওপর আস্থা রাখার পেছনে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একজন স্পিনার হিসেবে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখার পাশাপাশি দলের বোলিং আক্রমণ পরিচালনায়ও তাঁর ভূমিকা থাকবে। অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থদের সংগঠিত করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাঁর সামনে বড় দায়িত্ব।
এদিকে নেতৃত্ব হারালেও ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে জায়গা ধরে রেখেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের পথচলা, উইকেটকিপিং দক্ষতা এবং ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি নতুন অধিনায়ককে সহযোগিতা করতে পারবেন। দলের ভেতরে অভিজ্ঞ ও অপেক্ষাকৃত নতুন ক্রিকেটারদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
এই দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারী। ফলে নাহিদার পাশাপাশি নেতৃত্বের কাঠামোয় থাকছেন তিনিও। ব্যাটিং ও দলীয় পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে রাখা হয়েছে। শারমিন আক্তার সুপ্তা, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, দিলারা আক্তার ও রাবেয়া খানের মতো ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে দিশা বিশ্বাস, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, ফাহিমা খাতুন, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও সাথী রানীও রয়েছেন ঘোষিত দলে।
ইমার্জিং নেশনস ট্রফির মতো প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পান। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিপক্ষের খেলার ধরন সম্পর্কে ধারণা অর্জন, ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং দলীয় সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
নতুন অধিনায়ক নাহিদার জন্যও প্রতিযোগিতাটি হবে নিজের নেতৃত্বের দক্ষতা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশেষ করে বোলিং পরিকল্পনা, ফিল্ডিং সাজানো এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যই থাকবে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।
সব মিলিয়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। নাহিদা আক্তারের নেতৃত্বে দলটি কতটা ভালো করতে পারে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল
-
নাহিদা আক্তার (অধিনায়ক)
-
সোবহানা মোস্তারী (সহ-অধিনায়ক)
-
নিগার সুলতানা জ্যোতি
-
শারমিন আক্তার সুপ্তা
-
স্বর্ণা আক্তার
-
রিতু মনি
-
দিলারা আক্তার
-
রাবেয়া খান
-
দিশা বিশ্বাস
-
ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা
-
ফাহিমা খাতুন
-
জুয়াইরিয়া ফেরদৌস
-
জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা
-
সানজিদা আক্তার মেঘলা
-
সাথী রানী


