নিউইয়র্কে শিক্ষকের সামনে ছাত্রী রুশমীর গর্বের মুহূর্ত

একজন শিক্ষকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী? কোনো পুরস্কার, সনদ কিংবা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়—বরং বহু বছর আগে পড়ানো কোনো শিক্ষার্থী যখন নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষকের সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন সেই মুহূর্তের আনন্দের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। নিউইয়র্কে এমনই এক আবেগঘন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক শিক্ষক, তাঁর সাবেক ছাত্রী রুশমী রোজকে ঘিরে।

শিক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছর আগে তিনি রুশমী রোজকে পড়িয়েছিলেন। সেই মেধাবী ছাত্রী এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (NYPD) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সেই পুরোনো সম্পর্ক বদলে যায়নি; বরং রুশমীর পেশাগত সাফল্য তাঁর শিক্ষকের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ গর্বের বিষয়।

রুশমী রোজ বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও এনজিও ব্যক্তিত্ব মরহুমা মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে। তিনি পেসডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে শিক্ষকের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মাহফুজ আরা মিভার দুই মেয়ে—রুশমী ও রুশানা—দুজনই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। মজার বিষয়, দুজনই ওই শিক্ষকের ছাত্রী ছিলেন।একজন এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (NYPD) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অপরজন ডাক্তার রুশানা

এই পারিবারিক ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের মধ্যে এবার যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।

শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে দায়িত্ব পালন করার সময় রুশমী রোজের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সূচি ছিল।

ওই সময় রুশমী দায়িত্বে ছিলেন। বগুড়ার একজন নারী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর খোঁজখবর নেন বলে শিক্ষক জানিয়েছেন। ঘটনাটি রুশমীর কাছেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে।

শিক্ষকের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে রুশমী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা তাঁর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ ঘটে যায়।

একজন শিক্ষকের কাছে এই অনুভূতির মূল্য আরও বেশি। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যে মেয়েটিকে তিনি শ্রেণিকক্ষে পড়িয়েছেন, সেই শিক্ষার্থী আজ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ—পুরোনো শিক্ষক হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে আবেগের একটি মুহূর্ত।

নিউইয়র্কে শিক্ষকের সামনে ছাত্রী রুশমীর গর্বের মুহূর্ত (3)

 

রুশমীর এই পথচলায় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বগুড়ার একটি পরিবারের স্মৃতি, একজন শিক্ষকের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং একজন শিক্ষার্থীর পরিশ্রমে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক যে শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বহু বছর পরও একইভাবে আবেগ ও গর্বের জায়গা তৈরি করতে পারে, নিউইয়র্কের এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষক জানিয়েছেন, রুশমীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের ছবি দেখেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তাঁর কাছে এটি কেবল একজন সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে একজন রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎ নয়; বরং বহু বছর আগে পড়ানো একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যকে নিজের চোখে দেখার আনন্দ।

রুশমী রোজ ও তাঁর বোন রুশানার  জন্য শিক্ষকের শুভকামনাও সীমাহীন। সময় পেরিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। কিন্তু একজন ভালো শিক্ষকের স্মৃতিতে তাঁদের সাফল্য থেকে যায় নিজের সন্তানের মতোই আপন হয়ে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।