নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে ভারত। কিউইদের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। তাঁদের বিধ্বংসী সূচনায় মাত্র কয়েক ওভারেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় দল।
ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক ও বৈভব। প্রচলিত অর্থে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় নষ্ট না করে তাঁরা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ের গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারতের স্কোর একশ ছাড়িয়ে যায়। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে দ্রুততম দলীয় অর্ধশতক, দ্রুততম দলীয় শতরান এবং পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে ভারত।
২.২ ওভারেই ৫০ রান
ম্যাচ শুরুর মাত্র ২.২ ওভারে ৫৩ রানে পৌঁছে যায় ভারতের স্কোর। অর্থাৎ, মাত্র ১৪টি বৈধ বলের মধ্যেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করে ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম ৫০ রানের রেকর্ডে এই কীর্তি পাপুয়া নিউগিনি ও রোমানিয়ার আগের নজিরের সঙ্গে যৌথভাবে জায়গা করে নেয়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুরুতে দ্রুত রান তোলা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের প্রথম ছয় ওভারে মাত্র দুজন ফিল্ডার ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে থাকার সুযোগ থাকায় ব্যাটাররা ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে বাউন্ডারি আদায়ের চেষ্টা করেন। অভিষেক ও বৈভবও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তুলেছেন বলে ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়।
পাঁচ ওভারেই দলীয় শতরান
ভারতের দ্বিতীয় রেকর্ডটি আরও উল্লেখযোগ্য। মাত্র পাঁচ ওভারেই দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করে তারা। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত দ্রুত দলীয় শতরান করার নজির এর আগে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দখলে ছিল দ্রুততম দলীয় শতরানের রেকর্ড। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫.৩ ওভারে ১০০ রান করেছিল। পরের বছর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও একই সময়ের মধ্যে শতরান পূর্ণ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। অভিষেক ও বৈভবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে এবার সেই রেকর্ড পেছনে পড়ে গেল।
দুই ওপেনারের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত ব্যাটিং নৈপুণ্যের পরিচয় নয়, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক সূচনার গুরুত্বও তুলে ধরে। অল্প সময়ের মধ্যে বড় স্কোর গড়ে তুলতে পারলে প্রতিপক্ষের বোলিং পরিকল্পনা ও ফিল্ডিং সাজানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ ১১৮ রান
ভারতের তৃতীয় বিশ্বরেকর্ডটি গড়েছে পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই ভারত সংগ্রহ করে ১১৮ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে পাওয়ারপ্লেতে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে সোফিয়ায় সার্বিয়ার বিপক্ষে রোমানিয়া ছয় ওভারে ১১৬ রান করেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাওয়ারপ্লেতে ১১৮ রান তোলার অর্থ, প্রথম ছয় ওভারেই প্রতিপক্ষের ওপর বড় চাপ তৈরি করে ফেলে দলটি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লের সদ্ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় দ্রুত রান তোলা গেলে পরবর্তী ওভারগুলোতে দলকে তুলনামূলক স্বস্তিতে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে এত দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট হারানোর ঝুঁকিও থাকে। অভিষেক ও বৈভবের জুটি সেই ঝুঁকি সামলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেই রেকর্ডগুলো গড়েছে।
ভারতের রেকর্ড তিনটি এক নজরে
-
দ্রুততম দলীয় ৫০ রান: ২.২ ওভারে ৫৩ রান; পাপুয়া নিউগিনি ও রোমানিয়ার আগের রেকর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে।
-
দ্রুততম দলীয় ১০০ রান: মাত্র পাঁচ ওভারে শতরান পূর্ণ।
-
পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ রান: প্রথম ছয় ওভারে ১১৮ রান, যা রোমানিয়ার ১১৬ রানের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে গড়া এই রেকর্ডগুলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাঁদের এমন সূচনা ভারতের জয়ের পথ সহজ করেছে। একই সঙ্গে এই ম্যাচ আবারও দেখিয়েছে, টি-টোয়েন্টিতে প্রথম কয়েক ওভারের কার্যকর ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পুরো ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।


