খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর আলি হোসেন (২২) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকালে উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ফসলি ক্ষেতে জমে থাকা বর্ষার পানিতে তাঁর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
নিহত আলি হোসেন মহাদেবপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল তাঁকে। জীবিকার তাগিদে তিনি স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে কাজ করার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালি হিসেবেও কঠোর পরিশ্রম করতেন। তাঁর এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে আলি হোসেন মহাদেবপুরের নিজ বাড়ি থেকে পাশের হরষপুর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। সাধারণত সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। তবে সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তরুণটির কোনো হদিস মেলেনি। নিরূপায় হয়ে তাঁর স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আলি হোসেনের ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্ধান চেয়ে একাধিক পোস্টও করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনদিন পর মিলল তাঁর নিথর দেহ।
সোমবার সকালে মহাদেবপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় বাড়ির কাছাকাছি একটি ক্ষেতের জমিতে কিছু একটা ভাসতে দেখেন। সাম্প্রতিক বর্ষার বৃষ্টিতে ক্ষেতটিতে বেশ পানি জমে ছিল। কৌতূহলবশত তাঁরা কাছে গিয়ে একটি যুবকের মরদেহ উপুড় হয়ে ভেসে থাকতে দেখেন। নিখোঁজ আলি হোসেনের পরনের পোশাক দেখে গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে লাশটি শনাক্ত করেন এবং মাধবপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে মাধবপুর থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পানি থেকে লাশটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসে।
ক্ষেতের পাশে তখন আলি হোসেনের মা-বাবা ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আব্দুল আহাদ। এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অপরাধমূলক ঘটনা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে গ্রামবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহতের স্বজনরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের পুলিশের একটি দল মহাদেবপুর গ্রামে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলেই সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা হয়। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই বলা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।