নারায়ণগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের কাছে ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ফাতেমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শিয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা শাহীন মিয়া এবং মা নাজমা বেগম। পরিবারের সদস্যদের কাছে ফাতেমার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উৎকণ্ঠার। তিন দিন পর তার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলেও পরিবারটির জন্য নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি।
দুই বান্ধবীর সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর স্কুলের ছুটির পর দুই বান্ধবীর সঙ্গে পাশের বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসল করতে যায় ফাতেমা। একপর্যায়ে তার দুই বান্ধবী নদী থেকে উঠে এলেও ফাতেমা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকেই ফাতেমাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছিল। নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নৌ পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার এ জিডি করা হয়েছিল।
নদীতে গোসল করতে গিয়ে ফাতেমা ঠিক কীভাবে পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার মধ্যে মরদেহ
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের কাছে ধলেশ্বরী নদীতে কচুরিপানার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার পর তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরে মরদেহটি ফাতেমা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়।
মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল মাবুদ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফাতেমার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর ধলেশ্বরী নদীতে তার মরদেহ পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও বেদনাবিধুর করে তুলেছে। তবে কীভাবে মরদেহটি ওই স্থানে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
শিশুদের নদীতে গোসলে সতর্কতা জরুরি
ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা শিশুদের নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে গোসল করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নদীর পানির গভীরতা, স্রোত এবং তলদেশের অবস্থা অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
শিশুদের নদী বা জলাশয়ে গোসলের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাখা জরুরি। সাঁতার জানা থাকলেও নদীর স্রোত ও পানির গভীরতা বিপদের কারণ হতে পারে। কোথাও কেউ পানিতে তলিয়ে গেলে প্রশিক্ষণ ছাড়া সরাসরি পানিতে নেমে উদ্ধার করতে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি সহায়তা চাওয়া এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়া প্রয়োজন।
ফাতেমার নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি শিশুর এমন মৃত্যু তার পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় ফাতেমার নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি ও মৃত্যুর বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


