বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছেন বাপ্পা মজুমদার। সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীতপরিচালক হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পেয়েছেন শ্রোতাদের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি। ব্যান্ড সংগীত, একক অ্যালবাম এবং চলচ্চিত্রের গান—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে আজকের পরিচিতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পথচলা, সংগ্রাম এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে নিজের সেই যাত্রার বেশ কিছু অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন এই সংগীতশিল্পী।
বাপ্পা মজুমদারের সংগীতজীবনের শুরুটা ছিল বেশ সাধারণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একসময় হোটেলে গিটার বাজাতেন তিনি। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গিটার বাজিয়েই জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। পেশাদার সংগীতজীবনে প্রবেশের সেই স্মৃতি আজও তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সংগীতাঙ্গনে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ দেশের পরিচিত সংগীতশিল্পীদের একজন হয়ে উঠেছেন।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ব্যান্ড দল ‘দলছুট’। প্রয়াত সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে মিলে দলটি গঠন করেন বাপ্পা। নিজস্ব গানের কথা, সুর ও পরিবেশনার মাধ্যমে দলছুট বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে আলাদা পরিচিতি অর্জন করে। আগামী নভেম্বর মাসে দলটির পথচলার ৩০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তিন দশকের এই যাত্রা শুধু বাপ্পার ব্যক্তিগত সংগীতজীবনের নয়, বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
ব্যান্ডের কাজ ও অডিও অ্যালবামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও যুক্ত হয়েছেন বাপ্পা। প্রায় ২০ বছর আগে সিনেমার গানে কাজ শুরু করলেও এ মাধ্যমে তাঁর কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কেন চলচ্চিত্রের গানে নিয়মিত কাজ করা হয়নি, সে বিষয়েও সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাপ্পার মতে, চলচ্চিত্রের গানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংগীতের দক্ষতার পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “সিনেমার গানের জন্য ‘যোগাযোগ’ থাকতে হয়। এ বিষয়ে আমি ভীষণ কাঁচা। যোগাযোগ না রাখতে পারলে সিনেমার গানে কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়।”
তাঁর এই বক্তব্য চলচ্চিত্রের সংগীতজগতে কাজের সুযোগ তৈরির একটি বাস্তব দিক তুলে ধরেছে। একজন শিল্পীর সৃজনশীলতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও চলচ্চিত্রের মতো পেশাদার মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও অনেক সময় প্রয়োজন হয়। বাপ্পা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
সম্প্রতি রুম্মান রশিদ খানের উপস্থাপনায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ শীর্ষক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বাপ্পা মজুমদার। সেখানে সংগীতজীবনের পরিচিত অধ্যায়ের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো, প্রথম পারিশ্রমিক পাওয়া এবং দীর্ঘ পথচলায় নানা ঘাত-প্রতিঘাতের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এই শিল্পী।
দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চা একজন শিল্পীর জীবনে কতটা পরিবর্তন আনে, বাপ্পার অভিজ্ঞতায় তার কিছু দিক উঠে এসেছে। বিশেষ করে হোটেলে গিটার বাজানোর সময় থেকে শুরু করে দলছুটের তিন দশকের যাত্রা পর্যন্ত তাঁর পথচলা সংগীতের প্রতি নিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতার গল্প বলে।
‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ অনুষ্ঠানটি আজ রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএমে একযোগে প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠানে বাপ্পার মুখে তাঁর জীবনের অজানা গল্প ও সংগীতজগতের অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ পাবেন দর্শক-শ্রোতারা।


