রিয়াদের আল-আওয়াল পার্কে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছিল, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এরপর সৌদি নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে। একই রাতে রিয়াদে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এ পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও খেলোয়াড়দের অপেক্ষা করতে হয়। গ্যালারিতে অল্পসংখ্যক দর্শক নিজেদের আসনে বসে ছিলেন। সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেল নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার খবর জানায়। পরে স্টেডিয়ামের স্পিকারে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে ঘোষণা দেওয়া হলে খেলা শুরু হয়।
মাঠে নেমে অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আল নাসর। ম্যাচের ৩০ মিনিটে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের গোলে এগিয়ে যায় সৌদি ক্লাবটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দলের অধিনায়ক রোনালদো। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে এটি ছিল তাঁর ৯৮১তম গোল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৪-এ।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে নেফচি ফেরগানা। ৫১ মিনিটে একটি গোল করে ব্যবধান কমায় উজবেকিস্তানের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন দলটি। তবে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে তাদের আত্মঘাতী গোল আল নাসরের জয় নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের উদ্বোধনী ম্যাচে আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল আল নাসর। সেই পরাজয়ের পর নেফচির বিপক্ষে জয়টি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকগ্লুর অধীনেও এ প্রতিযোগিতায় এটি আল নাসরের প্রথম জয়।
মাঠের বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। আল আইনের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি উয়েফা নেশনস লিগের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আল নাসরে ফিরে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন এই পর্তুগিজ তারকা।
এ ঘটনার জেরে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) গত শনিবার রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সব মিলিয়ে রিয়াদে নিরাপত্তা উদ্বেগ, ম্যাচ পিছিয়ে যাওয়া এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক—সবকিছুর মধ্যেই গোল করে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন রোনালদো। তাঁর গোলের পাশাপাশি দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স আল নাসরকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে। তবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।


