বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এবার নতুন মাত্রা পেতে পারে। এখন পর্যন্ত দুই দল কেবল দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, দুটিই ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কখনো একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি বাংলাদেশ ও নেপাল। আগামী বছর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে নেপালের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের আগ্রহের কথা জানানো হয়। নেপালের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীস জানান, দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সূচি বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাহরিয়ার নাফীস বলেন, বিসিবি ও নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সফর ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি বেশ ব্যস্ত থাকায় সময় বের করা সহজ নয়। তারপরও বর্তমান ক্রিকেট চক্রের মধ্যে সুবিধাজনক একটি সময় খুঁজে সিরিজটি আয়োজনের চেষ্টা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে সিরিজটি মাঠে গড়াতে পারে।
নেপালের পক্ষ থেকে এই সিরিজ আয়োজনের আগ্রহের পেছনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নেপালের ক্রিকেট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ তাদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ক্রিকেটীয় অবকাঠামো ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশের জন্যও তুলনামূলক নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ নয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপাল মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে, আর দুটিই হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না হওয়ায় দুই দেশের ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। সম্ভাব্য এই সিরিজ সেই জায়গায় পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে সিরিজের জন্য সময় বের করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলের সামনে এখন এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট। আগামীকাল থেকে মিরপুরে শুরু হওয়ার কথা এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি। চলতি মাসের শেষ দিকে এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের আবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই নেপালের বিপক্ষে সম্ভাব্য সিরিজের জন্য সময় নির্ধারণ করতে হবে বিসিবিকে।
শাহরিয়ার নাফীসও জানিয়েছেন, চলতি ক্রিকেট চক্রের মধ্যেই নেপালের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে বিসিবির। নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এখন দুই বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সময় ও সূচি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা।
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেটি শুধু দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়েরও নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।


