খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই এপ্রিল ২০২৫, ১০:৪১ এএম
নেপালে প্রায় দুই দশক আগে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠা করা হয় ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র, কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতির যে স্বপ্ন দেখিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে ‘হিমালয়কন্যা’খ্যাত দেশটিতে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ বাড়ছে।
গত মাসে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ এতে বাধা দেয়।
ফলে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে দুজন নিহত হয়। শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে নেপালে বিক্ষোভের ঘটনা এবারই প্রথম নয়।
গত দুই দশকে এই দাবিতে অনেকবার বিক্ষোভ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধীরগতির কারণে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি দেশটির জনগণের হতাশা বাড়ছে। পাশাপাশি প্রজাতন্ত্র নিয়ে আগ্রহ কমছে।
অন্যদিকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে।
হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালের পার্লামেন্টে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন দেশটিতে এক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি শান্তিচুক্তি হয়, যে গৃহযুদ্ধে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, মূলত সেই শান্তিচুক্তির ধারাবাহিকতায় রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নেপালের রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) চেয়ারপারসন রাজেন্দ্র লিংডেন মনে করেন, রাজা নেপালিদের জাতীয় পরিচয় ও গর্বের সঙ্গে যুক্ত। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘শাসন করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা রাজতন্ত্র চাই না। তবে দেশের অভিভাবক হিসেবে আমরা রাজতন্ত্র চাই, যা দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাবে।
২০১৭ সালের নির্বাচনে আরপিপি পার্লামেন্টে একটি আসন পেয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের নির্বাচনে রাজতন্ত্র ও হিন্দুপন্থী কর্মসূচি নিয়ে দলটি ১৪টি আসন পায়। আরপিপি বর্তমানে নেপালের পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
৪৩ বছর বয়সী শিক্ষক রাজেন্দ্র কুনওয়ার গত মাসে রাজতন্ত্রের সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেন। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘দেশ অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। দ্রব্যের দাম বাড়ছে, মানুষের চাকরি নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে। এ কারণেই আমাদের রাজাকে ফেরানো দরকার।’
সূত্র : এএফপি
খবরওয়ালা/এমএজেড
মন্তব্য