নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী বখাটে ও কিশোর অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৪৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে নোয়াখালীতে ১৬৩ জন এবং লক্ষ্মীপুরে ১৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দুই জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীতে আটক ১৬৩
নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযানে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন থানায় আলাদা করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাতিয়া থানা এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বেগমগঞ্জে ৩৭ জন এবং সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া সেনবাগে ৯ জন, সুবর্ণচরের চরজব্বার থানায় ৭ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৩ জন এবং সোনাইমুড়ী ও কবিরহাট থানায় পাঁচজন করে মোট ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা এবং বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের আড্ডা ও বখাটেপনা ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে নোয়াখালীতে ১৬৩ জনকে আটকের তথ্যও পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিশোর অপরাধ দমনে নিয়মিত পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুরে আটক ১৮৪
লক্ষ্মীপুরেও মঙ্গলবার রাতে কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানো হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ১৫৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, কিশোর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে রোববার সন্ধ্যার পর লক্ষ্মীপুরের ছয়টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়েছিল। ওই অভিযানে যাচাই-বাছাইয়ের পর বিপুলসংখ্যক কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই অভিযানের আটক ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।
এরপর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার অভিযানে লক্ষ্মীপুরে আরও ১৮২ জনকে আটকের তথ্যও জেলা পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ছয়টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে কিশোর অপরাধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে উত্ত্যক্ত করা, মাদক ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল অভিযান চালিয়ে কিশোর অপরাধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবারকে সন্তানের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা এবং অপরাধে জড়িত না থাকা কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের জিম্মায় পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই জেলায় ধারাবাহিক অভিযানের মধ্য দিয়ে পুলিশ মূলত কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, জনসমাগমস্থলে বখাটেপনা এবং অপরাধে কিশোরদের সম্পৃক্ততা কমাতে নজরদারি জোরদার করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।


