খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেললাইন উঁচু করার কাজ শেষ হওয়ার পর রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করে। একই সঙ্গে কক্সবাজারমুখী অন্যান্য ট্রেনও পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে চলাচল শুরু করেছে।
তিনি বলেন, যেসব স্থানে রেললাইন পানির নিচে চলে গিয়েছিল, সেখানে ব্যালাস্ট ফেলে লাইন উঁচু করা হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার পরই ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে এই রুটে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকার কথা নয়।
গত ৭ জুলাই টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্লাবিত হয়। কয়েকটি স্থানে রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পর্যন্ত পানি জমে যায়। এতে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শুরুতে কয়েকটি ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে অপেক্ষা করলেও দীর্ঘ সময়েও পানি না কমায় সেগুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে আগের স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পরদিন বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারগামী ট্রেন পরিচালনা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বাতিল হওয়া টিকিটের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে যেসব যাত্রী ঢাকায় ফিরতে চেয়েছিলেন, তাঁদের জন্য চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ট্রেনে যাত্রার বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
পরবর্তী কয়েক দিনে প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে টানা কাজ চালিয়ে যান। প্লাবিত এলাকায় জমে থাকা পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইনের নিচে নতুন করে ব্যালাস্ট ফেলা, লাইনের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেলপথকে চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো। পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর যাতায়াতেও এ রুটের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই কয়েক দিনের এই ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের একটি বড় অংশকে সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল, যা অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রেল চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বিবেচনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।