খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পাঁচজন যুবক একটি এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তিনজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। অপর দুইজনকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোরপূর্বক সঙ্গে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান বা পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছেন।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই দাবি এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে নিহতদের পরিচয় এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে পানছড়ি এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রসিত গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি, অপহরণ এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, অপহৃত বলে দাবি করা দুই ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
মন্তব্য