পিরোজপুর সদর উপজেলায় কঁচা নদীর ওপর নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নিচ থেকে বিশালাকার লোহার পাইপ চুরির চেষ্টা করার সময় এক স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ মোট ৯ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান আলোচিত মুখ শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারি। নদীর পাড়ে সেতুর নিরাপত্তায় ব্যবহৃত ও রাখা সরকারি লোহার পাইপ কাটাকাটি করে সরিয়ে নেওয়ার সময় পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে হানা দেয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ হেমায়েত বেপারি ও তার ৮ সহযোগীকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, গভীর রাতে সেতুর নিচে সরকারি সম্পত্তি চুরির চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়। ঘটনার সাথে গ্রেপ্তারকৃত হেমায়েত বেপারির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা কতটা রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চুরির সাথে জড়িত অন্যদের ভূমিকা শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি ব্রিজের মালামাল চুরির মতো গুরুতর অপরাধে ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতার নাম আসায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারির আটকের খবর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান এবং দলের পরিচয়ে কোনো অপরাধের সুযোগ নেই। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধ বা চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দাবি, কঁচা নদীর ওপর এই চীন মৈত্রী সেতুটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সাথে পিরোজপুরের সড়ক যোগাযোগের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসেতু। গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এর পাইপ বা অন্যান্য সরকারি মালামাল কেটে নিয়ে গেলে তা কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং সেতুর সার্বিক কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকির কারণ হতে পারত। পুলিশি অভিযানে চোর চক্রের অন্যান্য সদস্য ও এর পেছনে থাকা মূল ইন্দনদাতাদের খুঁজে বের করার জোর দাবি জানিয়েছেন পিরোজপুরবাসী।


