সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালি এলাকায় পুকুরে ডুবে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুকুরঘাটে তাদের দুই জোড়া স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক ব্যক্তির। পরে পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে তিনি দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত দুই শিশু হলো—বাটকেখালি এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে হাবিবা (১০) এবং সাদ্দাম হোসেনের ছেলে লাবিব (৯)। হাবিবা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং লাবিব তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে হাবিবা ও লাবিব একসঙ্গে গফুর সাহেবের বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যায়। তারা একসঙ্গে পুকুরে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্বজনেরা আশপাশের এলাকায় তাদের খোঁজ শুরু করেন।
দুপুরের দিকে পুকুরের কাছাকাছি এলাকায় খোঁজ চালানোর সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি গোসল করতে সেখানে যান। পুকুরঘাটে পড়ে থাকা দুই জোড়া স্যান্ডেল তার নজরে আসে। শিশু দুজনের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানার পর স্যান্ডেল দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি পুকুরের পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে হাবিবা ও লাবিবের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে দুই শিশুরই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
দুই শিশুর মৃত্যুর খবরে বাটকেখালি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও আহাজারি। একই পুকুরে গোসল করতে গিয়ে কীভাবে তারা পানিতে ডুবে গেল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুকুরে গোসল করতে গিয়ে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে সাঁতার না জানা শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়ির কাছের পুকুর, খাল বা জলাশয়ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের একা জলাশয়ের কাছে যেতে না দেওয়া এবং গোসলের সময় বড়দের নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে বাটকেখালির এই ঘটনায় ঠিক কী কারণে দুই শিশু পানিতে ডুবে গেল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


