২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আরব কাপের ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল জর্ডান। রোমাঞ্চকর সেই লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী রানার্সআপ দল হিসেবে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পুরস্কারমূল্য বাবদ পাওয়ার কথা ছিল ৪০ কোটি টাকা। তবে ফাইনাল খেলার দীর্ঘদিন পর এখনও সেই পাওনা অর্থ বুঝিয়ে দেয়নি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)।
সংস্থাটির বিরুদ্ধে মারাত্মক এই বঞ্চনা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ এনেছেন ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি ও জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান প্রিন্স আলি বিন আল হুসেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, জর্ডানকে তাদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) অবহিত করা হয়েছে।
প্রিন্স আলি জানান, ফিফা কর্মকর্তা ও বর্তমান নেতৃত্ব তাঁদের সরাসরি হুমকি দিয়েছে। শর্ত দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতিতে তাঁরা যদি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেন, তবেই আটকে থাকা পুরস্কারমূল্য এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ত্বরান্বিত করা হবে। ফিফার তরফ থেকে জর্ডানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পাশে অবস্থান নিলে জর্ডান ফুটবল সংস্থাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে এই ধরনের কোনো অনৈতিক শর্তের কাছে মাথা নত করতে নারাজ জর্ডান। প্রিন্স আলি স্পষ্ট করে বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আর সেই কারণে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জর্ডানের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে ফিফা প্রশাসন।
ফিফার বৈপরীত্য ও অপশাসন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিন্স আলি বলেন, বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রায়ই তাদের বিশাল আর্থিক সংস্থান এবং ভর্তি কোষাগার নিয়ে প্রকাশ্যে বড়াই করে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে অর্জিত টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এমন অপকৌশল সত্যিই লজ্জাজনক। তাঁর মতে, সমস্যাটি সাধারণ কোনো প্রশাসনিক বিলম্ব নয়; মূল সংকট ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের নীতি ও স্বচ্ছতার মধ্যে। গত কয়েক মাস ধরেই ফিফা জর্ডান ফুটবলের প্রতি সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ রেখেছে। এএফসি ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলেও ফিফার তরফ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



