খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৫, ৭:৪৪ পিএম
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে কর্মে জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে, আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে যদি কোনো দল প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য জ্যেষ্ঠতম দু’জন বিচারপতির মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেই দল নির্বাচনে জয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
রবিবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনের পর এই ঐকমত্যে পৌঁছায় দলগুলো।
কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন।
এদিন সকালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয় আলোচনা শেষে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি দল আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারককে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব করে। বিএনপিসহ ছয়টি দল আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দু’জন বিচারপতির মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। দুপুরের বিরতির আগে ঐকমত্য ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
দুপুরের বিরতির পর আবারও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় আপিল বিভাগের কর্মে জ্যেষ্ঠতম বিচারকই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হবেন। তবে কোনো দল যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দু’জন বিচারপতির মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা বিজয়ী হলে তা করতে পারবে।
এই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জ্যেষ্ঠতম বিচারককে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন, তা আমি মানি। তবে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) জানিয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যা থাকবে, তা হলো—কর্মে জ্যেষ্ঠতম দু’জন বিচারপতির মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি করা হবে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমাদের দলীয় অবস্থান হলো—আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারকই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হবেন। তবে যদি কোনো দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দু’জন বিচারপতির মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের কথা বলে, তাহলে জনগণ যদি তা মেনে নেয়, আমরা মানব।’
এ ছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে কোনো অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগ না থাকলে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের অধীনে তদন্ত প্রক্রিয়া না চললে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের কর্মে জ্যেষ্ঠতম বিচারককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন।
খবরওয়ালা/আরডি
মন্তব্য