খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ (প্রায় ৫২৮ কোটি) মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এই পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশের মোট প্রাপ্ত প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর জন্য সরকারের উৎসাহ প্রদান, ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়ন এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের সিংহভাগই এসেছে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ থেকে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই মোট ২ হাজার ২৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা মোট প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ। এই শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় সৌদি আরবের পর পর্যায়ক্রমে রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।
প্রবাসী আয়ের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে গত ১১ মাসে প্রবাসীরা ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩২২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী কর্মরত থাকার কারণেই এই দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশটি আসছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে নতুন করে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়া এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের প্রভাবে সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স আসার এই ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। জুনের হিসাব যুক্ত হলে অর্থবছর শেষে দেশের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও উল্লেখজনক হারে বাড়বে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।