এক তরুণ প্রবাসী শ্রমিকের জীবন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করার এক বছরে একেবারে অন্যরকম মোড় নিল। পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে কাজের প্রথম বছরেই তিনি ক্রমাগত জ্বর, ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যার মধ্যে HIV পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল, তার রিপোর্টে ধরা পড়ে সংক্রমণ।
পরবর্তী সময়ে হোস্ট দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তার ভিসা বাতিল, কর্মঅনুমতি প্রত্যাহার এবং চিকিৎসা বা পরামর্শ ছাড়াই তিনি দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এমনভাবে এক বছরের বিদেশী কর্মজীবন একটি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হঠাৎ শেষ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NASCP) জানায়, দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে HIV সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত হওয়া ১,৮৯১ জন HIV রোগীর মধ্যে ১২% ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিক।
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| নতুন শনাক্ত HIV রোগী (২০২৫) | ১,৮৯১ |
| ফেরত প্রবাসী শ্রমিকদের ভাগ | ১২% |
| মূল ঝুঁকি ফ্যাক্টর | একাকীত্ব, মানসিক চাপ, যৌন স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব |
| প্রধান গন্তব্য দেশ | সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন পরিবারের থেকে দূরে থাকা, নিরাপদ যৌন সম্পর্ক ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, এবং হোস্ট দেশে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ প্রবাসীদের HIV ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক গালফ দেশে HIV শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল ও দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা চলে, যা মানবাধিকার অভিভাবকদের কাছে নিষ্ঠুর হিসেবে বিবেচিত।
Brave Dimension Global-এর সভাপতি মীর বলেন, “একবার প্রবাসী শ্রমিক অসুস্থ হলে চিকিৎসার কোনো সুযোগ থাকে না। ঔষধ বা চাকরিতে থাকার কথা বিবেচনায় আসে না।” দেশে ফেরার পর তাঁরা সামাজিক কলঙ্ক, আয় হ্রাস ও মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। সরকারি সহায়তা সীমিত; অধিকাংশ পরামর্শসেবা দিতে থাকে বেসরকারি সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন: বিদেশ যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও HIV সচেতনতা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যজনিত কারণে বহিষ্কার রোধে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, এবং দেশে ফেরার পর চাকরি ও মানসিক সহায়তা সহ পুনর্বাসন ব্যবস্থা তৈরি। Ramru-এর কার্যনির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, “প্রবাসী শ্রমিকের স্বাস্থ্য রক্ষা করা প্রেরণকারী ও গৃহী দেশের যৌথ দায়িত্ব। HIV সহ কোনো রোগের কারণে বহিষ্কার মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতা প্রচারণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক।



