‘প্রয়োজনে হাত-পা বেঁধে রাখেন, তবু পরিবারের সামনে এভাবে অপমান করবেন না’—সশস্ত্র ডাকাত দলের অশালীন গালিগালাজ ও কিলঘুষির মুখে এভাবেই আকুতি জানিয়েছিলেন সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা। অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মতিন উল্লাহর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই তাণ্ডব চালায় ডাকাতেরা। টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এই কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারকে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ ঘরের প্রধান দরজায় বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় সাবেক এএসপি মতিন উল্লাহর। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই তিনি মুখোমুখি হন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ৮ থেকে ১০ জনের একদল ডাকাতের। মুখোশ ও হাফপ্যান্ট পরিহিত ডাকাত সদস্যরা ঘরে ঢুকেই তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পুলিশে সফলতার সঙ্গে চাকরি শেষ করে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অবসরে যান মতিন উল্লাহ। ঘটনার রাতে বাড়িতে তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং এক মেয়ে ছিলেন। ডাকাত দলের একজন তুইতুকারি করে তাঁর কাছে জানতে চায়, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর যে এককালীন টাকা পেয়েছেন, তা কোথায় রাখা আছে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি আলাদা কক্ষে আটকে রাখে। এরপর বাকি ঘরগুলোর আলমারি, ড্রয়ার ও আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করে নগদ ৪০ হাজার টাকা, ৫ ভরি সোনার গয়না, ৩টি মোবাইল ফোন, বাড়ির নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর এবং একটি ইউপিএস লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাত দল মালামাল লুট করে চম্পট দেওয়ার মিনিট দশেক পর মতিন উল্লাহ কোনোক্রমে কক্ষ থেকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর প্রতিবেশী এক বাড়িতে গিয়ে তাঁদের ফোন ব্যবহার করে দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানা-পুলিশের টিম। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গভীর রাতে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আজ শনিবার দুপুরে জেলা ও সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। ভুক্তভোগী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।


