যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রাণীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের (পশুকাম) নথিপত্র ধারণ, সংরক্ষণ ও ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগে রায়হান আব্দুল বাতেন নামে এক বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরো কাউন্টিতে তাকে আটক করা হয়। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তার বিরুদ্ধে একটি ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য চিত্রায়ণ, তা ইন্টারনেটে বিতরণ এবং নিজের কাছে ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টি পুলিশের রেকর্ড থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
অভিযোগের মুখে পড়া রায়হান আব্দুল বাতেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিং বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ব্যাচেলর অব সাইন্স (বিএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টার থেকে এমএস ও ২০২২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবনে মেধাবী হিসেবে পরিচিত হলেও এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির ঘটনায় আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রায়হানের অতীত জীবন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বুয়েটে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সহপাঠীদের দেওয়া তথ্যমতে, ক্যাম্পাসে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক মতাদর্শের এই ধারা পরবর্তীতেও বজায় ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমর্থক বলে পারিবারিক ও সামাজিক সূত্রে উঠে এসেছে। পেশাগত প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রীর নাম ফাতেমা তুজ জোহরা। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলন চলাকালে রায়হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় ছিলেন। সেই সময়ে তিনি আন্দোলনের সমর্থনে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে লাল রঙের ফ্রেম ব্যবহার করে নানা বার্তা পোস্ট করেছিলেন। প্রবাসী একাডেমিকদের মাঝে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।


