ফরিদপুরে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের আখ সেন্টার সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত পুরোনো আধাপাকা ভবন থেকে এসব মারাত্মক অস্ত্র ও বিস্ফোরক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি)-এর সদস্যরা।
অভিযান সূত্র ও এসআরবি ফরিদপুর ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন স্থাপনা ও থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাতেও আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। থানা থেকে খোয়া যাওয়া এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ অপরাধী বা চরমপন্থি চক্রের হাতে পড়ে কোনো ধরনের বড় ধরনের নাশকতামূলক বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলে সম্প্রতি গোপন সংবাদ আসে যে, কানাইপুর আখ সেন্টারের পাশের একটি নির্জন পুরোনো ভবনে কিছু সন্দেহজনক বস্তুর স্তূপ রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস দল বুধবার রাতের শেষভাগে সেখানে তাৎক্ষণিক ও ঝটিকা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসআরবি ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তপন সরকার জানান, তল্লাশি চালিয়ে ভবনের একটি গোপন কোণ থেকে ২৭ রাউন্ড শটগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি টিয়ারশেল ও ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র মিলিয়ে দেখা গেছে যে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি উপাদানই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি গোলাবারুদের অংশ।
উদ্ধার করা কার্তুজ ও সাউন্ড গ্রেনেডগুলো বর্তমানে নিরাপত্তার সাথে এসআরবি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এর সাথে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত ও ছায়া তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। থানা থেকে লুট হওয়া অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে জেলাজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।


