আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে চাপে রয়েছে আফগানিস্তান। এর মধ্যেই পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর পর ফিল্ডারের থ্রোয়ের আঘাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। ২০ রান করে ব্যাটিং থামাতে বাধ্য হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ব্যাটিং পরিকল্পনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর আগে চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান। বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য পেরোতে হলে শেষ তিন দিনে নয়, বরং ম্যাচের বাকি সময়টুকুতে তাদের ব্যাটারদের দায়িত্বশীলভাবে রান তুলতে হতো। কিন্তু দিনের শুরুতেই হাশমতউল্লাহর চোট দলটির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
পঞ্চম দিনের তৃতীয় ওভারে বল হাতে নেন বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ওভারের চতুর্থ বলে সেদিকুল্লাহ আতাল একটি সিঙ্গেল নেন। রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের ছোড়া বল এসে লাগে হাশমতউল্লাহর পায়ের প্যাডে। আঘাতের পর তাঁকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
মাঠে থাকা ফিজিও দ্রুত এগিয়ে এসে আফগান অধিনায়ককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ফিজিওর সহায়তায় ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমতউল্লাহ।
ক্রিকেটে কোনো ব্যাটার চোট বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইনিংসের মাঝপথে ব্যাটিং বন্ধ করে মাঠ ছাড়লে তাঁকে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি ও শারীরিক অবস্থার উন্নতি সাপেক্ষে তিনি পরে আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারেন। তবে হাশমতউল্লাহর চোটের মাত্রা কিংবা তাঁর মাঠে ফেরার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
তাঁর মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে আসেন ইকরাম আলীখিল। আফগানিস্তানের সামনে তখনও বড় লক্ষ্য তাড়া করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। একদিকে উইকেট ধরে রেখে রান বাড়ানো, অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদের চাপ সামলানো—দুই দিকেই সতর্ক থাকতে হচ্ছিল দলটিকে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫৭ ওভার শেষে তিন উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৯ রান। অর্থাৎ, জয়ের জন্য তখনও ৩৩০ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। অন্যদিকে, ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের বাকি সাতটি উইকেট তুলে নেওয়া।
হাশমতউল্লাহর অনুপস্থিতি আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং দলের অন্য ব্যাটারদের পারফরম্যান্সের ওপর। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে উইকেট ধরে রাখা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই পরিস্থিতিতে সেটিই হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার।


