খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিবাগত রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে। নিহত ইলিয়াস খান (২৬) ওই গ্রামের সাত্তার খানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি মো. রাসেল, যিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল আজিজের ছেলে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিযুক্ত রাসেলের ছেলে সিয়াম ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। খেলার সময় সৃষ্টি হওয়া এই বিরোধ পরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সিয়াম আহমেদের বাবা রাসেল এবং তার নিকট আত্মীয় ইলিয়াস খানের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তখন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেই উত্তেজনা নতুন করে সংঘর্ষের রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রাসেলের ছেলে সিয়াম ধারালো ছুরি দিয়ে ইলিয়াস খানের বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সিয়াম পালিয়ে গেলেও ভোরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে তার বাবা মো. রাসেলকে আটক করা হয়।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিরোধের পটভূমি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
গ্রামাঞ্চলে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সামান্য বিরোধ থেকে সংঘাতের ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটলেও, তা যেন প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিণতিতে না পৌঁছায়—এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। বর্তমান ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।