খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই মার্চ ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
বগুড়ায় কিস্তির টাকা আদায়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘উদ্দীপন’ নামে একটি এনজিওর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এনজিওর দুই কর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট হয়ে গেছে। শনিবার রাতে, বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা পাট বীজাগারের কাছে অবস্থিত এই এনজিও কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ‘উদ্দীপন’ এনজিওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালান। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এনজিও কর্মীদের উপর আঘাত করে এবং অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। এছাড়া, তাদের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় আহত হন এনজিওর প্রোগ্রাম অফিসার হাসিনুর রহমান (৩৪) ও ফার্স্ট ক্রেডিট অফিসার শিমুল আলী (২৭)।
হামলার পর, এনজিওর কর্মী রাজিয়া সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, “দু-তিনজন ব্যক্তি কার্যালয়ে প্রবেশ করে একে একে আমাদের উপর আক্রমণ চালায়। তারা হাতুড়ি ও চাকু দিয়ে হামলা করেছিল, এর পর তারা অফিসের কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে এবং ওই সময় কার্যালয়ে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।”
হামলার পেছনে কিস্তির টাকা আদায় সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে খান্দার এলাকার নূর ইসলাম নাহিদের স্ত্রী মাহমুদা রহমান ‘উদ্দীপন’ এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কিস্তি পরিশোধ না করায় এনজিও কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা দিতে থাকে। শনিবার বিকেলে কিস্তি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এনজিওর এক কর্মীকে মারধর করা হয়, এরপর রাতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে এনজিও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
রাজিয়া সুলতানা আরও জানান, “এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কিস্তির টাকা না পরিশোধ করায় আমরা অনেকবার তাদের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। শনিবার কিস্তির বিষয়ে কথা বলার পরই কর্মীকে মারধর করা হয়, এবং রাতের বেলায় হামলা চালানো হয়।”
হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে, তাদের নাম-পরিচয় জানাতে এনজিও কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার পর বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “হামলার বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে, তদন্ত চলছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসিনুর রহমান ও শিমুল আলী বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে শিমুল আলী গুরুতর আহত হয়েছেন, তবে দুজনেরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| হামলার স্থান | বগুড়া পৌরসভা, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড, ফুলতলা |
| আহতদের নাম | হাসিনুর রহমান (৩৪), শিমুল আলী (২৭) |
| হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র | হাতুড়ি, চাকু |
| লুট হওয়া টাকা | দেড় লাখ টাকা |
| মামলা | প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত চলছে |
| পুলিশের বক্তব্য | তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
মন্তব্য