আন্দামান সাগর ও আশপাশের এলাকায় একটি নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই একই অঞ্চলে আবারও গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন অংশে সাগর উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গত মধ্যরাতে (২৮ সেপ্টেম্বর) এটি একই এলাকায় অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে মিয়ানমারের কিয়াইকতো এলাকার ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য জারি করা সতর্কতার মাত্রাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আগে দেখানো ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিচরণ না করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে সামুদ্রিক মাছ ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে আপাতত সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
গভীর নিম্নচাপটি মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করার পর এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপের সময় দমকা হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ছোট ও মাঝারি নৌযানের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোকে সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


