খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরায় মেথিকান্দা রেলস্টেশনের প্রবীণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগম (৭০) হত্যা ও টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১২ জুলাই) আসামিদের নরসিংদীর আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেশকাতুল ইসলাম পাঁচ আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার রায়পুরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও র্যাব-১১। পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এই প্রবীণ নারীর জীবনের এক করুণ ইতিহাস জানা গেছে। প্রায় ২৫ বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা রেলে চড়ে মেথিকান্দা রেলস্টেশনে এসে নামেন। ইশারায় কথা বলা এই নারী নিজের নাম-পরিচয় কিংবা ঠিকানার কিছুই বলতে পারতেন না। পরে স্টেশনের আশপাশের মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভালোবেসে তাঁর নাম দেন ‘ববি বেগম’। সেই থেকে সিকি শতাব্দী ধরে তিনি এই নামেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।
জীবনধারণের জন্য তিনি স্টেশনের শৌচাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার করার কাজ বেছে নেন। যাত্রীদের দেওয়া সামান্য টাকা আর মানুষের সাহায্যের ওপর ভর করেই চলত তাঁর জীবন। দীর্ঘদিন ধরে নিজের খাওয়া-পরা বাঁচিয়ে অতি কষ্টে তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু এই জমানো টাকাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত স্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে বৃদ্ধা ববি বেগমকে নির্মমভাবে মারধর করে। এ সময় তাঁর সারাজীবনের সঞ্চয় ২০ হাজার টাকা লুটে নেয় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ৭ জুলাই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতর তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ববি বেগমের মৃত্যুর পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তাঁর জীবনের আসল সত্য এবং প্রকৃত পরিচয়। জানা গেছে, তাঁর আসল নাম ওয়াহিদা বেগম। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের শাখাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২৫ বছর আগে স্বামী ও একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর তীব্র মানসিক ও পারিবারিক অভিমানে তিনি ঘর ছাড়েন। এরপর চলন্ত ট্রেনে চড়ে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে একপর্যায়ে নরসিংদীর রায়পুরায় এসে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ এই ২৫ বছর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। স্বজনরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই।
পত্রিকা ও গণমাধ্যমের সূত্রে এই পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার দুপুরে বগুড়া থেকে তাঁর দুই বোন ও এক ভাইসহ পরিবারের ১৪ জন স্বজন রায়পুরায় ছুটে