বরিশাল নগরীতে বাসায় হাত-পা বেঁধে অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকা আমেনা খানমকে নির্মমভাবে হত্যার সাতদিন পর তাঁর ব্যবহৃত চুরি যাওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ফোন উদ্ধারের সূত্র ধরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নগরীর মারুফ ওরফে ঢাকাইয়া মারুফ এবং রাফিম। কাউনিয়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নগরীর ভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইলটি তাঁদের হেফাজতেই পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে এই দুজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার বিকেলে আটক দুজনকে আমেনা খানম হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অপরাধটির মূল নেপথ্যে চুরি কিংবা ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণের সঙ্গে নিহত আমেনা খানম বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের পূর্বপরিচয় কিংবা জানাশোনা ছিল না। ফলে এটি কোনো পরিকল্পিত পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নয়, বরং বাহ্যিক অপরাধীদের দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে থেকে নিহতের মোবাইল ফোনটি হস্তান্তরের চেষ্টা করছিল। ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে ফোনটির অবস্থান সনাক্ত করে দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই দুজনই সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন নাকি এর পেছনে আরও কেউ ইন্ধন জুগিয়েছে, তা পরিষ্কার হতে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। মূল রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর রাতে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার ‘ময়নার পুল’ নামক একটি তিনতলা ভবনের ভাড়া বাসা থেকে ৬৫ বছর বয়সী আমেনা খানমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে বৃদ্ধার হাত-পা রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
নিহত আমেনা খানম বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। কর্মজীবন শেষে কাউনিয়া এলাকার ওই ভাড়া বাসায় তিনি একাই বসবাস করতেন। তাঁর বড় ছেলে মাসুম রিফাত রাজধানীতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং অন্য ছেলেও কাজের সূত্রে আলাদা থাকেন।
১ অক্টোবর রাতে বাসার মালিক ঘরের ভেতরে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে স্বজনদের খবর দেন। ঢাকায় থাকা বড় ছেলে খবর পেয়ে বরিশালে ছুটে আসেন এবং কাউনিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মায়ের নিথর দেহ দেখতে পান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন ২ অক্টোবর নিহতের ছেলে মাসুম রিফাত বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


