চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে মো. এহসান প্রকাশ হাসান (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে তাকে নিয়ে যায় চারজনের একটি দুর্বৃত্ত দল। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
নিখোঁজ ব্যবসায়ী এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠোর পরিশ্রম ও প্রবাস জীবনের পর দেশে ফিরে তিনি প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনামতে, শনিবার রাতে নিজের হার্ডওয়্যার দোকানে কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এহসান। ঠিক রাত ৮টার দিকে কালো পোশাক ও মুখে কালো মাস্ক পরিহিত চার ব্যক্তি দোকানে এসে হাজির হন। তাদের পোশাকে ভুয়া এসআরবির লোগো লাগানো ছিল। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি দোকানের ভেতরে ঢুকে এহসানকে জোরপূর্বক হাতকড়া পরান। অন্য দুজন বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তারা ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে চম্পট দেয়।
অপহৃত ব্যবসায়ীকে প্রথমে বাঁশখালীর নাপোড়া হয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাহন পরিবর্তন করে অন্য একটি অটোরিকশায় তাকে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ এহসানের চাচাতো ভাই জসিম উদ্দিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো সরকারি সংস্থা এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেনি এবং অপহরণকারীরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কি না বা কারা কী উদ্দেশ্যে তাকে তুলে নিয়ে গেছে, তা পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারছেন না। পুরো বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে পেকুয়ার নেজাম উদ্দিন প্রকাশ রেজু (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অপহৃত ব্যবসায়ীকে দ্রুত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
অন্যদিকে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। র্যাবের আভিধানিক দল ও গোয়েন্দা শাখা ইতোমধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।


