খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১০ পিএম
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন, সরকারি আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ক্রয়প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যালোচনা চলাকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অর্থছাড় ও বছর শেষের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর পাশাপাশি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কিছু সুপারিশ অনুসরণ করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সংস্কার মূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাদের প্রস্তাবিত নির্বাহী বাজেট এবং চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে। সামগ্রিকভাবে বাজেটের তথ্যগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হলেও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। বাজেটের নথিতে সরকারের প্রত্যাশিত আয় ও ব্যয়ের একটি প্রাথমিক রূপরেখা রয়েছে। সেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে আসা আয়ের হিসাব থাকলেও নির্বাহী বিভাগগুলোর নিজস্ব সহায়তায় হওয়া ব্যয় পৃথকভাবে দেখানো হয়নি। এমনকি বাজেটে দেশের মোট অর্থনৈতিক লেনদেনের সামগ্রিক ছবি ফুটে ওঠেনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ এবং তাদের আয়ের তথ্য বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকা একটি ইতিবাচক দিক। তবে দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বাধীনতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে দেশটি। সংস্থাটি সরকারের সামগ্রিক হিসাব পর্যালোচনা না করলেও সংক্ষিপ্ত কিছু ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা সময়মতোই জনসাধারণের হাতে পৌঁছেছে।
অনুকূল পর্যবেক্ষণের তালিকায় রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া। এসব ক্ষেত্রে সরকার আইন ও বিধিমালা মেনে কাজ করেছে। এছাড়া সরকারি কেনাকাটার জন্য একটি ডিজিটাল ই-জিপি বা ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যদিও এতে প্রবেশাধিকার এবং তথ্যের প্রাপ্তি আরও সহজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে:
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আদর্শ মানদণ্ড মেনে পূর্ণাঙ্গ বাজেট নথি তৈরি করা।
রাষ্ট্রীয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কার্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যয় আলাদাভাবে প্রদর্শন করা।
প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বছর শেষে প্রকৃত রাজস্ব আয় ও বাস্তব ব্যয়ের বৈষম্য দূর করা।
সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
জাতীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশ যুক্ত করে নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ করা।
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি, লাইসেন্সের মৌলিক তথ্য এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তির বিবরণ প্রকাশে গোপনীয়তা কমানো।
সার্বিকভাবে, পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের বাস্তবায়িত বাজেটের তথ্য যাতে সরাসরি ও সরাসরি নাগরিকের নাগালে আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে এই দিকগুলো বাস্তবায়ন করা এখন জরুরি।
মন্তব্য