খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩ এএম
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যা চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ছয় বছর বয়সী ফারদিনের মতো বহু শিশু এখন ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, কারণ তাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে। ফারদিনের বাবা আহমেদ এলাহী জানান, ছেলের ঘন ঘন প্রস্রাবের লক্ষণ দেখে পরীক্ষা করালে তার এই রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ এখন শুধু বড়দের নয়, শিশুদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে এবং প্রতি বছর এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির তথ্যমতে, প্রতি বছর ৩০০-৪০০ নতুন শিশুর মধ্যে ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে, যা আগের তুলনায় বেশি। গবেষক ও চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা গেলেও এখন এটি শিশুদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিস চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে ২০৪৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ২ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।
আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৩.৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর রোগ নির্ণয় এখনো হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, ৩০ বছরের কম বয়সীদের সাধারণত টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়, যার সংখ্যা দেশে কম। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দেশে বেশি এবং এটি এখন কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।
কারণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম জানান, টাইপ-১ ডায়াবেটিস জন্মগত ও পরিবেশগত কারণে হতে পারে। এতে দেহের অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষগুলো দ্রুত ধ্বংস হয়ে ইনসুলিন উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে বাংলাদেশে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রকোপই বেশি, যা এখন অল্প বয়সেই দেখা যাচ্ছে। ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ অনেক দেশেই কম বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো শিশুদের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি এবং খেলাধুলা ও কায়িক শ্রমের অভাব। তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করা, ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করা এবং নিয়মিত খেলাধুলা করা জরুরি।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, টাইপ-১ ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন অপরিহার্য। অন্যদিকে, মুটিয়ে যাওয়ার কারণে শিশুরা এখন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা ৩০ বছর বয়সের আগে হতো না। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ফাস্ট ফুডের সহজলভ্যতা এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবই ডায়াবেটিস বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য