রাজধানীর বাংলামোটরে স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ফেরদউস আহামেদ সায়মনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, গুলি ছোড়া ও পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ফেরদউস আহামেদ সায়মনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা দুই ভাই ওমর আহামেদ ও মিজান আহামেদও ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলামোটর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মেহিদি হাসান সহানের সঙ্গে ফেরদউস আহামেদ সায়মনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সহানের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সায়মন পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়ায় সায়মন ও তার দুই ভাই পালিয়ে কাছের একটি বাসায় আশ্রয় নেন।
এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বাসাটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় সায়মনের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল পৌঁছায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আসার পর একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সায়মনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্যই পুলিশ সেখানে এসেছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পরে ওই বাসা থেকে ফেরদউস আহামেদ সায়মনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা সায়মনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং বাসা দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় তার তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র মানুষ তার বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও দাবি, কয়েক মাস আগে সায়মনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও এলাকায় তার প্রভাব ও তৎপরতা কমেনি। বরং দলের ওপরের সারির কিছু ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকার কারণেই তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফেরদউস আহামেদ সায়মন বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বাংলামোটর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের ভয়ভীতি,মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকেই এদিনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনায় অস্ত্র ব্যবহার, গুলি ছোড়া, আহত করা এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।


