বান্দরবান সদর উপজেলার কসাইপাড়া এলাকার একটি পাহাড়ি ঝিরি থেকে শরীফ (৩৮) নামে যুবদলের এক নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কসাইপাড়া এলাকার একটি পাহাড়ি ঝিরির কাছে স্থানীয় কয়েকজন কাজ করতে যান। এ সময় তাঁরা ঝিরির পানিতে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ঝিরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শরীফ বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি শহরের তালুকদার পাড়ার বাসিন্দা জহিরের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, শহরের কসাইপাড়া এলাকার একটি ঝিরি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত
পাহাড়ি ঝিরি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। শরীফ কীভাবে ওই ঝিরিতে গেলেন, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, নাকি অন্য কোথাও মৃত্যুর পর মরদেহটি সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে তাঁর শরীরে থাকা আঘাতের ধরন এবং সেগুলোর সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে মরদেহের সুরতহাল, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির সাম্প্রতিক চলাফেরা, কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার আগে তাঁর অবস্থান কোথায় ছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড কিংবা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছু জানায়নি। ফলে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে এ ঘটনাকে হত্যা বা অন্য কোনো অপরাধ হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধারের পর এখন পুলিশি তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম শেষে শরীফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যেও এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানার অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।


