খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স এক কথায় চোখধাঁধানো। দলটির শক্তির গভীরতা এতটাই যে, তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো খুঁত খুঁজে বের করাই এখন ফুটবল বিশ্লেষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসরের শুরু থেকে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে ওঠা স্প্যানিশদের খেলায় এখনো কোনো বড় ধরনের দুর্বলতা চোখে পড়েনি। মেগা ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে।
বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর ঠিক আগে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একটি ‘একতাবদ্ধ’ ও লড়াকু দল গড়ার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের জন্য যখন চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়, তখন স্প্যানিশ ফুটবলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। দেশের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলারকে দলে না রাখায় ফুটবলার ও সমর্থকদের একাংশ কোচের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। অনেকে স্পেনের সাফল্য নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছিলেন। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই সেই সব সমালোচনা আর সংশয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে লা রোহারা।
স্পেনের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের রসায়ন। ২৬ সদস্যের স্প্যানিশ স্কোয়াডে সিংহভাগ জায়গা জুড়ে আছেন বার্সেলোনার আটজন ফুটবলার। তবে এই দলটির সৌন্দর্য হলো, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের ওপর নির্ভরশীল নয়। বার্সা তারকাদের পাশাপাশি দলটিতে যুক্ত হয়েছেন পিএসজির দূরদর্শী মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের অ্যালেক্স বায়েনা। সেই সঙ্গে মাঝমাঠের মূল ভরসা হিসেবে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা রদ্রি। আক্রমণের ধার বাড়াতে রিয়াল সোসিয়েদাদের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল কোচের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন দারুণভাবে। সব মিলিয়ে দলটিতে অভিজ্ঞ ও তরুণের এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
চলতি টুর্নামেন্টে স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচটি চোখধাঁধানো গোল করে গোলদাতার তালিকায় ওপরের দিকে আছেন। ফাইনালেও যদি তিনি এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দলকে সোনালি ট্রফি এনে দিতে পারেন, তবে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরতরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
স্পেনের এই স্বপ্নের দৌড়ে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে তরুণ তুর্কিদের নির্ভীক ফুটবল। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং রক্ষণভাগের পাউ কুবার্সির মতো তরুণরা প্রতি ম্যাচেই নিজেদের জাত চেনাচ্ছেন। মাঝমাঠ আর আক্রমণে দানি ওলমোর সৃজনশীল পাসিং, উইংয়ে লামিনে ইয়ামালের অতিমানবীয় গতি আর ডিফেন্সে কুবার্সির দেয়ালসদৃশ পারফরম্যান্স স্পেনকে পূর্ণতা দিয়েছে। দলটির বেঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে, গত ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক নিকো উইলিয়ামসের মতো তারকা ফুটবলারকেও অনেক ম্যাচে মূল ভূমিকা রাখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। মাঠের এই অপ্রতিরোধ্য ফর্মই ফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন শিবিরে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিচ্ছে।